মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে ১ হাজার কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির পর্ষদ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এ বন্ড ইস্যু করা হবে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে (পিএসআই) বিষয়টি জানিয়েছে ইউসিবি।
তথ্যানুসারে আনসিকিউরড, রূপান্তর অযোগ্য ও অবসায়নযোগ্য ১ হাজার কোটি টাকার এ সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের মেয়াদ হবে সাত বছর। টায়ার-২ নিয়ন্ত্রক মূলধনের অংশ হিসেবে এ বন্ড ইস্যু করা হবে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর অনুকূলে ৭৭৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকার নতুন শেয়ার এবং শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা অফার মূল্যে দুটি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে একটি করে রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউসিবি।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইউসিবির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪২ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ১১ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি ইউসিবির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৫ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৪২ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ইউসিবির পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ২৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশের দিয়েছে ব্যাংটি। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৩৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৫৭ পয়সায়।
১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে আসা ইউসিবির অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৫০ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৪৬১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৫ কোটি ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯৮। এর মধ্যে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, দশমিক ৮১ শতাংশ সরকার, ৩৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক ৬৩ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৫২ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার ইউসিবির শেয়ার সর্বশেষ ১০ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৮ টাকা ২০ থেকে ১৪ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।